প্রায় তিন বছর পর নতুন সিনেমার খবরে আবার আলোচনায় অভিনেত্রী নাজিফা তুষি। ২০২২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত আলোচিত চলচ্চিত্র ‘হাওয়া’র পর তাকে নতুন কোনো প্রজেক্টে দেখা যায়নি। অবশেষে সেই নীরবতা ভেঙে পরিচালক মেজবাউর রহমান সুমনের নতুন সিনেমা ‘রইদ’-এর মাধ্যমে পর্দায় ফিরছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সিনেমাটির পোস্টার প্রকাশের পরপরই উন্মুক্ত করা হয় ট্রেলার। প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা। ট্রেলারটি দর্শক ও চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি কাড়তে সক্ষম হয়েছে।
এর আগেই পোস্টার প্রকাশের মাধ্যমে জানানো হয়, ‘রইদ’ নির্বাচিত হয়েছে বিশ্বের অন্যতম সম্মানজনক চলচ্চিত্র উৎসব ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল রটারড্যাম (আইএফএফআর)-এর ৫৫তম আসরের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগ ‘টাইগার কম্পিটিশনে’। এই অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের জন্য তৈরি হয়েছে এক নতুন ইতিহাস।
ট্রেলার প্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিনেমার অভিনয়শিল্পী মোস্তাফিজুর নূর ইমরান, নাজিফা তুষি, গাজী রাকায়েত, আহসাবুল ইয়ামিন রিয়াদসহ অন্যান্য কলাকুশলীরা।
পরিচালক মেজবাউর রহমান সুমন বলেন, ‘রটারড্যামের টাইগার প্রতিযোগিতা বিভাগে রইদের বিশ্ব প্রিমিয়ার হবে। এই প্রথম কোনো বাংলাদেশি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র আইএফএফআরের মূল প্রতিযোগিতায় আমন্ত্রণ পেল। এটি আমাদের জন্য যেমন গর্বের, তেমনি দায়িত্বেরও।’
তিনি জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্রের সঙ্গে ‘রইদ’ প্রতিযোগিতা করবে মর্যাদাপূর্ণ টাইগার অ্যাওয়ার্ড অর্জনের লক্ষ্যে।
সিনেমাটির গল্প লিখেছেন মেজবাউর রহমান সুমন ও সেলিনা বানু মনি। চিত্রনাট্য নির্মাণে যুক্ত ছিলেন মেজবাউর রহমান সুমন, জাহিন ফারুক আমিন, সিদ্দিক আহমেদ এবং সুকর্ণ শাহেদ ধীমান। ছবিটির শুটিং হয়েছে সিলেটের সুনামগঞ্জ অঞ্চলের বিভিন্ন লোকেশনে।
গল্পের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করতে গিয়ে পরিচালক বলেন, ‘এক সাধু, তার মানসিকভাবে অসুস্থ স্ত্রী এবং তাদের বাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি তালগাছ- এই তিনকে কেন্দ্র করে আবর্তিত রইদের গল্প। এখানে আমরা আদম ও হাওয়ার আদিম আখ্যানের প্রতিধ্বনি খুঁজেছি। সময়ের বর্তমান নয়, বরং অনুভূতির বর্তমানকে গুরুত্ব দিয়েই গল্পটি বলা হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, সিনেমার দৃশ্য ও আবহে গ্রামীণ বাংলার যে রূপ ফুটে উঠেছে, তা অনেকটাই অনুপ্রাণিত চিত্রশিল্পী এস এম সুলতান- এর শিল্পভাবনা থেকে।