• শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ০১:৫৪ পূর্বাহ্ন

কক্সবাজারে একটি ভিডিও বদলে দিল সবকিছু: মেহেদির রাতে ভেঙে গেল ফাহমিদার বিয়ে!

শাকুর মাহমুদ চৌধুরী।।উখিয়া (কক্সবাজার) জেলা প্রতিনিধি : / ৮৪ পাঠক
আপডেট বুধবার, ১৬ জুলাই, ২০২৫

শাকুর মাহমুদ চৌধুরী, উখিয়াঃ

একটি মাত্র ভিডিও বদলে দিল কক্সবাজারের রামু উপজেলার এক কনের সমস্ত স্বপ্ন, সম্ভাবনা ও সামাজিক মর্যাদার ভিত্তি। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছিল, বরপক্ষও পৌঁছেছিল। মেহেদি পরা হাতে নববধূর সাজে স্বপ্ন বুনছিলেন ফাহমিদা জান্নাত মাহিমা। কিন্তু একটি আপত্তিকর ভিডিওর কারণেই তছনছ হয়ে গেল তার জীবন। শেষ মুহূর্তে বিয়ে ভেঙে দিয়ে ফিরে গেল বরপক্ষ।

এই অমানবিক ও লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটেছে রামু উপজেলার দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের চেইন্দা ছড়ারকুল গ্রামে। ইতোমধ্যেই বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

ভুক্তভোগী ফাহমিদা জান্নাত মাহিমা সৌদি প্রবাসী ফজল করিমের মেয়ে। ফকিরা মুরা মাদ্রাসায় পড়াকালে একই ইউনিয়নের খরাতি ঘোনা এলাকার মৃত মোস্তফার ছেলে মোহাম্মদ রিয়াদ প্রায়ই তাকে উত্যক্ত করত। ফাহমিদা ও তার পরিবার এই হয়রানির কারণে মেয়ের পড়াশোনার পরিবেশে বিঘ্ন ঘটে যাওয়ায় পার্শ্ববর্তী এলাকার জনৈক শহিদুল আলমের সঙ্গে তার বিয়ে ঠিক করে।

সব আনুষ্ঠানিকতা, কাবিননামা, আমন্ত্রণ—সবই সম্পন্ন হয়েছিল। ঠিক হয়েছিল ১১ জুলাই ফাহমিদাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বরের বাড়ি তুলে নেওয়া হবে। কিন্তু এরই মধ্যে ঘটলো নারকীয় অপকর্ম।

ফাহমিদার পরিবার জানায়, গত ১ জুলাই দুপুর ২টার দিকে ফাহমিদা কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টার থেকে বাড়ি ফেরার পথে ছাদের পাড়া এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকেই ওঁৎ পেতে থাকা মোহাম্মদ রিয়াদ তার সহযোগীদের নিয়ে সিএনজিতে এসে তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে। পরে তাকে কক্সবাজার শহরের একটি অজ্ঞাতস্থানে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে এবং তার মোবাইল ফোন দিয়ে আপত্তিকর ভিডিও ও ছবি ধারণ করে।

সেদিন সন্ধ্যায় বনতলা রাস্তার মাথায় তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় রিয়াদ। এরপর ৯ জুলাই—বিয়ের মাত্র দুই দিন আগে—ধর্ষক রিয়াদ ধারণকৃত ভিডিও হবু বর শহিদুল আলমের মোবাইলে পাঠিয়ে দেয়। এর পরই মেহেদির রাতে চরম অপমান ও হতাশা নিয়ে বিয়ে বাতিল করে দেয় বরপক্ষ।

এই ঘটনায় ফাহমিদার পরিবার আর্থিকভাবে প্রায় সাত লক্ষ টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। বিয়ের সাজসজ্জা, খাবার, গয়না, প্রস্তুতি—সবই বিনষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু এর চেয়েও বড় ক্ষতি হয়েছে এক নারীর সম্মান ও ভবিষ্যতের। ফাহমিদার পরিবার জানায়, সমাজের ভয়ে মেয়েকে আর আগের মতো দেখা যাচ্ছে না। মেয়েটি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

ফাহমিদা জান্নাত মাহিমা রামু থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি এবং তার পরিবার অভিযুক্ত মোহাম্মদ রিয়াদের বিরুদ্ধে দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এই ঘটনা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। এলাকার সচেতন নাগরিকরা বলেন, একটি ভিডিও দিয়ে একটা মেয়ের জীবন শেষ করে দেওয়া চরম অপরাধ। এটা শুধু ফাহমিদার ঘটনা নয়, এটা পুরো সমাজের প্রতি আঘাত।

অবিলম্বে অভিযুক্ত মোহাম্মদ রিয়াদকে আইনের আওতায় এনে ধর্ষণ, অপহরণ, ব্ল্যাকমেইল ও নারী নির্যাতনের অভিযোগে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীর পরিবার ও এলাকাবাসী।
সেই সঙ্গে এমন ঘৃণ্য অপরাধ থেকে অন্যান্য মেয়েদের রক্ষার জন্য কঠোর নজরদারি এবং আইনি পদক্ষেপ জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এই সংবাদটি তুলে ধরার উদ্দেশ্য কোনো ব্যক্তি বা পরিবারকে হেয় করা নয়, বরং অপরাধীর শাস্তির দাবি ও সমাজে সচেতনতা সৃষ্টি করা। নারী নির্যাতন রোধে আমাদের সকলের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরোও