• বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:৩৭ পূর্বাহ্ন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্বাস্থ্য সহকারীদের ৬ দফা দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি, বেতন বৈষম্য নিরসনসহ টেকনিক্যাল পদমর্যাদার দাবিতে কর্মসূচি, ১ সেপ্টেম্বর থেকে কর্মবিরতির হুঁশিয়ারি

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধিঃ ইয়াসিন আরাফাত / ১৫২ পাঠক
আপডেট মঙ্গলবার, ৮ জুলাই, ২০২৫

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধিঃ ইয়াসিন আরাফাত

দেশের তৃণমূল পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা আরও কার্যকর ও টেকসই করতে ৬ দফা দাবিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্বাস্থ্য সহকারীরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। মঙ্গলবার (৮ জুলাই) বাংলাদেশ হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাসোসিয়েশন-এর কেন্দ্রীয় ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখা এ কর্মসূচির আয়োজন করে।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রাঙ্গণে সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর ১টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টাব্যাপী চলে এই কর্মসূচি। এতে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে শতাধিক স্বাস্থ্য সহকারী অংশগ্রহণ করেন। তারা প্ল্যাকার্ড, ব্যানার ও স্লোগানের মাধ্যমে তাদের দাবি-দাওয়ার প্রতি সচেতন মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

অবস্থান কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাসোসিয়েশন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সমন্বয়ক মো. আকবর আলী।

এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন গোমস্তাপুর উপজেলা সভাপতি নিয়ামত উল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহফুজ আলম, শিবগঞ্জ উপজেলা সভাপতি রাকিব রায়হান, স্বাস্থ্য সহকারী নূর নাহার শাপলা, ভোলাহাট উপজেলা সভাপতি আহসান হাবিব, নাচোল উপজেলা সভাপতি রবিউর ইসলাম, স্বাস্থ্য সহকারী কানিজ ফাতেমা ও আরও অনেকে।

বক্তারা বলেন, স্বাস্থ্য সহকারীরা মাঠ পর্যায়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী হলেও, তাদের সঙ্গে অন্য টেকনিক্যাল ক্যাডারের মতো সম্মান ও সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না। তারা বলেন, “আমরা দিনের পর দিন রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে শিশুদের টিকা দেই, পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম পরিচালনা করি, রোগ নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় থাকি—তবুও আমরা বঞ্চিত। আমাদের দাবি ন্যায্য এবং দীর্ঘদিনের।”

তাদের ৬ দফা দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য –
নিয়োগবিধি সংশোধন করে টেকনিক্যাল পদমর্যাদা নিশ্চিত করা।
ইন-সার্ভিস ডিপ্লোমা প্রশিক্ষণের সুযোগ প্রদান।
১১তম গ্রেডে বেতন স্কেল নির্ধারণ।
পদোন্নতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।
স্বাস্থ্য সহকারীদের মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান নিশ্চিত করা।
নিরাপদ ও আধুনিক কাজের পরিবেশ তৈরি করা।

বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমাদের দাবি সরকার দ্রুত বাস্তবায়ন না করলে, আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ইপিআইসহ সকল স্বাস্থ্য কার্যক্রম বন্ধ রাখা হবে। দেশের জনগণ যেন তার দায় সরকারের ওপরই দেন।”

এই কর্মসূচিতে জেলার পাঁচ উপজেলার শতাধিক স্বাস্থ্য সহকারী উপস্থিত ছিলেন। কর্মসূচি শেষে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণের কথাও জানান নেতারা।


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরোও