শাকুর মাহমুদ চৌধুরী।।উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় সরকারি খাসজমি দখল করে অবৈধভাবে চিংড়ি ঘের তৈরি করার সময় এক অভিযান পরিচালিত হয়েছে। ২৭ জানুয়ারি (সোমবার) সকালে উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের মনখালী এলাকায় অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে প্রায় ৪ একর জমি দখলমুক্ত করা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন জানায়, অভিযানে দখলকৃত ৩.২০ একর সরকারি খাসজমি থেকে অবৈধভাবে চিংড়ি ঘের নির্মাণের জন্য খনন কাজ চলছিল। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ কামরুল হোসেন চৌধুরী কক্সবাজার জার্নালকে নিশ্চিত করেন যে, অভিযান চালিয়ে দ্রুত খনন কাজ বন্ধ করা হয় এবং দখলকৃত জমি উদ্ধার করা হয়। তিনি বলেন, অবৈধভাবে খাসজমি দখল করে চিংড়ি ঘের নির্মাণের অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, উখিয়া উপজেলার এই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সরকারি খাসজমি দখলের ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন এই খাসজমি দখল করে একটি সিন্ডিকেট অবৈধভাবে চিংড়ি ঘের নির্মাণ করেছিলো। গত ৫ আগস্ট পট পরিবর্তনের পর আইনশৃঙ্খলার অবনতির সুযোগে পুনরায় তারা এই জমি দখল করে এবং অবৈধভাবে খনন কাজ শুরু করে।
অভিযোগ উঠছে যে, স্থানীয় প্রশাসন সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় এই ধরনের দখলদারির ঘটনা বারবার ঘটছে। সচেতন মহল এবং স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের এই ধরনের দখল পুনরাবৃত্তি প্রতিরোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। বিশেষ করে, তারা মনে করেন, সরকারি খাসজমি দখল এবং অবৈধ চিংড়ি ঘের নির্মাণের সাথে জড়িত সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আরও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন।
স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, খাসজমি দখল এবং অবৈধ চিংড়ি ঘের নির্মাণের বিষয়টি শুধু স্থানীয় এলাকাতেই নয়, কক্সবাজারের পরিবেশ এবং জীববৈচিত্র্যের জন্যও হুমকি স্বরূপ। একাধিক পরিবেশবাদী সংগঠন এবং স্থানীয় জনগণ মনে করছেন, এই ধরনের কর্মকাণ্ডে প্রশাসনকে আরও শক্তিশালী ভূমিকা নিতে হবে।
এদিকে, উখিয়া উপজেলার ইউএনও মোহাম্মদ কামরুল হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন, প্রশাসন ইতিমধ্যে দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মাঠে নেমেছে। তিনি আরও বলেন, এসব অবৈধ দখল এবং চিংড়ি ঘের নির্মাণের ঘটনা দ্রুত বন্ধ করা হবে। যারা এই কাজে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় জনগণ প্রশাসনের বিরুদ্ধে তাদের দাবি অব্যাহত রেখেছে। তারা আশাবাদী যে, প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে দ্রুত এসব দখলদারির অবসান ঘটানো সম্ভব হবে এবং এলাকার পরিবেশ ও প্রকৃতি রক্ষা হবে।
সাজ্জাতুল জামান / বার্তা বিভাগ