• শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ০৬:২৬ অপরাহ্ন

কুরআন অবমাননার প্রতিবাদে শহীদ আব্দুল মতিনের স্মরণ: ঐতিহাসিক কুরআন দিবস পালিত

নিজস্ব প্রতিবেদক : / ২০৮ পাঠক
আপডেট রবিবার, ১১ মে, ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক :

১১ই মে, ২০২৫: আজ, ঐতিহাসিক কুরআন দিবস। ১৯৮৫ সালের এই দিনে রাজশাহীর চাঁপাইনবাবগঞ্জে পবিত্র কুরআনুল কারীমের অবমাননার প্রতিবাদে শহীদ হয়েছিলেন দশম শ্রেণির ছাত্র আব্দুল মতিন। সেই মর্মান্তিক ঘটনার স্মরণে আজ দেশব্যাপী বিভিন্ন ইসলামী সংগঠন ও ধর্মপ্রাণ মুসলমান নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিনটি পালন করছেন।

ঘটনার সূত্রপাত হয় ১৯৮৫ সালের ১২ই এপ্রিল, যখন ভারতের দুই মুসলিমবিদ্বেষী ব্যক্তি পবিত্র কুরআনের সকল কপি বাজেয়াপ্ত করার জন্য আদালতে আবেদন জানায়। তাদের ভিত্তিহীন অভিযোগ ছিল কুরআনের কিছু আয়াতে নাকি সন্ত্রাসবাদকে উস্কানি দেওয়া হয়েছে। এই ঘৃণ্য অপচেষ্টার প্রতিবাদে তৎকালীন বাংলাদেশে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ফুঁসে উঠেছিলেন।

এরই ধারাবাহিকতায়, ১৯৮৫ সালের ১০ই মে বাদ জুমা রাজধানী ঢাকার বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সামনে ছাত্রজনতা এক শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ মিছিল বের করে। তবে, সরকারি নির্দেশে পুলিশ সেই মিছিলে নির্বিচারে লাঠিচার্জ করে।

বায়তুল মোকাররমে পুলিশের বাধার সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে, ১১ই মে রাজশাহীর চাঁপাইনবাবগঞ্জ ঈদগাহ ময়দানে বৃহত্তর সমাবেশের ডাক দেয় তৌহিদি জনতা। কিন্তু তৎকালীন স্থানীয় ম্যাজিস্ট্রেট ওয়াহিদুজ্জামান মোল্লা সেই শান্তিপূর্ণ সমাবেশে ১৪৪ ধারা জারি করেন। উপস্থিত জনতা যখন শুধুমাত্র দু’আ করার অনুমতি চান, তখন ম্যাজিস্ট্রেট তা প্রত্যাখ্যান করে পুলিশকে গুলি করার নির্দেশ দেন। পুলিশের মুহুর্মুহু গুলিতে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন দশম শ্রেণির ছাত্র ও ইসলামী ছাত্র শিবিরের কর্মী আব্দুল মতিন। হাসপাতালে নেওয়ার পর তিনি শাহাদাত বরণ করেন।

শহীদ আব্দুল মতিনের রক্তে রঞ্জিত এই দিনটি এরপর থেকে ঐতিহাসিক কুরআন দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। আজ গাজীপুরেও বিভিন্ন মসজিদে বাদ যোহর বিশেষ দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। বক্তারা শহীদ আব্দুল মতিনের আত্মত্যাগ এবং পবিত্র কুরআনের মর্যাদা রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

ইসলামী ঐক্য জোটের স্থানীয় নেতা মাওলানা রফিকুল ইসলাম বলেন, “শহীদ আব্দুল মতিন কুরআনের সম্মান রক্ষার্থে নিজের জীবন উৎসর্গ করে গেছেন। তার এই আত্মত্যাগ আমাদের সবসময় কুরআনের মর্যাদা রক্ষায় সোচ্চার থাকতে অনুপ্রাণিত করবে।”

কুরআন দিবসের এই দিনে, ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা পবিত্র কুরআনের শিক্ষা নিজেদের জীবনে ধারণ করার এবং যেকোনো মূল্যে এর সম্মান রক্ষা করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। একইসাথে, ১৯৮৫ সালের সেই tragic ঘটনার ন্যায় ভবিষ্যতে যাতে আর কোনো কুরআন অবমাননার অপচেষ্টা না হয়, সে ব্যাপারেও সকলে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।

অনলাইন ডেস্ক / বার্তা বিভাগ।


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরোও